ঢাকা | রবিবার | ১৪ জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
সারাদেশধনবাড়ীতে আগাম জাতের আলুর বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

ধনবাড়ীতে আগাম জাতের আলুর বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

spot_img

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার আলু আর ধান ধনবাড়ী উপজেলার প্রাণ, আলু চাষি কৃষকরা এবার সত্যিই প্রাণ ফিরে পেয়েছে ধনবাড়ী উপজেলার কৃষকরা। আগাম চাষের আলু তোলায় ব্যস্ত এখন কৃষক কৃষাণীরা। অনুকূল আবওহায়া আর সময়মত সার ও বীজ পাওয়ার কারনে এবার বাম্পার ফলনও হয়েছে। বাজারে আলুর দামও বেশী। গত বছরের তুলনায় এবার আলুর ফলন ও দাম বেশী পাওয়ায় কৃষকের চখে-মূখে হাসির ঝিলিক লক্ষ্য করা গেছে।

আলুচাষিরা জানান, এখন যারা আলু তুলছেন তা বিক্রি করে লাভের মুখই দেখছেন। চাষাবাদ, সার, বীজ, সেচ ও শ্রমসহ সব খরচ বাদ দিয়ে ভালই লাভ টিকছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর বাজার প্রতি মণে ১শ থেকে দেড়শ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে বৃদ্ধি পেলে আগামী সপ্তাহে যারা আলু তুলবেন তারা ফলনের সাথে মোটা অংকের লাভের মুখও দেখবেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি , বলিভদ্র, যদুনাথ পুর, বীরতারা, বানিয়াজান,ধোপাখালি ইউনিয়ন গুলোর বিভিন্ন এলাকায় চাষীরা মহিলা শ্রমিক নিয়ে আগাম জাতের আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব মাঠে রোমানা, পাকরি ও এলগার জাতের আলু তুলতে শুরু করেছেন।

গতকাল সকালে ধনবাড়ী উপজেলার ধনবাড়ী বাজারে আলু বিক্রি করতে আসা চাষিরা জানান, বাজারে প্রতি মণ পারকি আলু ৭২০ থেকে ৭৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর রোমানা আলু ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকা মণ। আলুর দাম দিনদিন বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা খুশি। এভাবে চলতে থাকলে চাষিরা এবার লাভের মুখ দেখবেন।

৫ একর জমিতে আগাম জাতের এলগার আলু চাষ করেছেন ধনবাড়ী উপজেলার মুশুদ্দি ইউনিয়নের মুশুদ্দি দক্ষিণ পাড়া গ্রামের আলুচাষি সুজন । তিনি বলেন, রোপণের ৬০ দিন বয়সে আমি আলু তুলেছি। জমিতে ফলন হয়েছে ৬০ মণ। ফসলের উৎপাদন খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। ৫২০ টাকা মণ দরে আলু বিক্রি হচ্ছে । তাতে লাভ হব আশা অনুরোধ । মাঠে আরও আলু আছে। দশ-পনের দিন পরে সেগুলোও তুলতে হবে। এবার আলুর দাম যদি এ রকম থাকে তাহলে মোটামুটি লাভের মূখ দেখা যাবে। পাশাপাশি গত কয়েক বছরের লোকশান কিছুটা হলেও পুষিয়ে ওঠবে।

মুশুদ্দি কামার পাড়া গ্রামের কৃষক মো: জমিরউদ্দীন বলেন, আলু রোপণ থেকে শুরু করে নিড়ানি, বাঁধানো, বহনসহ যাবতীয় কাজ করেছি আমিসহ পরিবারের লোকজন। বাহিরের শ্রমিককে নিতে হয়নি। তাই অন্যের থেকে বিঘাপ্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ কম হয়েছে। ১ বিঘা জমির আলু তুলেছি। ফলন হয়েছে ৬০ মণ। ৬৬০ টাকা মণ দরে বিক্রি করে প্রায় ৯ ১০ হাজার টাকা লাভ হবে আশা করি। আলু বিক্রি করে এবার ভালই লাগছে।

ধনবাড়ী কাচ মাল হাটের পাইকার শিহাব বলেন, বাজারে এখন আগাম জাতের আলু উঠতে শুরু করেছে। এসব আলু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড়বড় শহরের মোকামে সরবরাহ করা হচ্ছে। কাঁচা মালের মূল্য সঠিকভাবে বলা যায় না। আমদানীর উপর দাম ওঠা-নামার বিষয় নির্ভর করবে। তবে গত সপ্তাহ থেকে মোকাগুলোতে আলুর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম প্রতি মণে এক থেকে দেড়শ টাকা বেড়েছে।

ধনবাড়ী উপজেলার কৃষি অফিসার মোঃ মাসুদুর রহমান বলেন, বাজারে রোমানা পাকরি ও দেশী পাকরি (লাল) আলু ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। এই আলু এক সপ্তাহ পূর্বে ১০৫০ থেকে ১০৮০ টাকা মণ ছিল। আর মিউজিকা আলু বিক্রি হচ্ছে ৭২০ থেকে ৭৩০ টাকা মণ। এই আলু গত সপ্তাহে ছিল ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকা মণ। সব খরচ বাদ দিয়ে এবার চাষিরা লাভের মূখ দেখছেন। এবার আলুর দাম কম হওয়ায় কোনো সম্ভাবনা নেই। কারন বাহিরের অনেক দেশই বাংলাদেশের আলু নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করছেন। সবকিছু মিলে দেশে-বিদেশে এবার আলুর চাহিদা রয়েছে।
ধনবাড়ী উপজেলার কৃষি উপসহকারী ফরিদ আহমেদ বলেন, আগাম আলু চাষীদের কে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমি সার্বক্ষণ খোঁজ খবর রেখেছি, ভালো ফলনের জন্য পিএসসি পরামর্শ এতে কৃষক সফলতা পেয়েছে।

spot_img

সম্পর্কিত আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ খবর