ঢাকা | বুধবার | ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭:১১ অপরাহ্ণ

ডলার গিয়ে ঠেকেছে ১২০ টাকায়

spot_img

দেশে ডলারের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে, লাগামহীনভাবে বাড়ছে বৈদেশিক এ মুদ্রার দাম। এর বিপরীতে কমছে টাকার মান। নানা পদক্ষেপ নিয়েও দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাক। ফলে খোলা বাজারে খুচরা ডলারের দাম গিয়ে ঠেকেছে ১২০ টাকায়। চিকিৎসা, শিক্ষা বা ভ্রমণের জন্য যারা বিদেশে যাচ্ছেন তাদের প্রতি ডলার কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) কার্ব মার্কেট বা খোলা বাজারে নগদ এক ডলার কিনতে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে ১১৯ থেকে ১২০ টাকা। যেখানে গত সপ্তাহে এক ডলার ছিল ১১৭ থে‌কে ১১৮ টাকা। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত দাম অনুযায়ী খুচরা ডলারের দাম ১১৩ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।  

বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের এক্সচেঞ্জ হাউজ ও ডলার কেনাবেচার সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেশিরভাগ মানি চেঞ্জারের কাছে ডলার নেই। যাদের কাছে আছে তারাও সরাসরি ডলার বিক্রি করছে না। পরিচিত কারও মাধ্যমে ডলার বিক্রি করছেন। প্রতি ডলারে রেট নিচ্ছেন ১১৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১২০ টাকা। অর্থাৎ নগদ প্রতি ডলার কিনতে খরচ করতে হচ্ছে ১২০ টাকা পর্যন্ত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানি চেঞ্জার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মহাসচিব শেখ হেলাল সিকদার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক মানি চেঞ্জারগুলোর ডলারের দাম বেঁধে দিয়েছে, এক্ষেত্রে কেনার রেট ১১১ টাকা ৮০ পয়সা ও বিক্রির রেট ১১৩ টাকা ৩০ পয়সা। এ দামে কেউ ডলার পাচ্ছে না, তাই মানি চেঞ্জারগুলো এখন শূন্য হাতে বসে আছে।

তিনি জানান, মানি চেঞ্জারগুলো ফাঁকা থাকলেও ট্যাভেল এজেন্সি ও ফুটপাতে ডলার বিক্রি হচ্ছে। কারণ, তাদের কারো কাছে হিসাব দিতে হয় না। তাদের কাছে ডলারের অভাব নেই। দাম বেশি পাওয়ায় গ্রাহকও এখন বিভিন্ন এজেন্সির কাছে ডলার বিক্রি করছে। এজেন্সিগুলোও ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছে।

এদিকে রাজধানীর মতিঝিল ও গুলশান এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মানি চেঞ্জারগুলোতে খুব একটা বেচাকেনা নেই। হাতেগোনা এক দুইটা মানি চেঞ্জারে লেনদেন হচ্ছে, তাও এর সংখ্যা খুব নগণ্য। এককথায় অলস সময় পার করছেন বিক্রেতারা। অনেকে দাবি করছেন- ডলার নেই তাই বিক্রি করতে পারছি না।

কয়েকজন ডলার বিক্রেতা বলেন, বাজারে কেনাবেচা হচ্ছে, তবে কম। কারণ সবার কাছে ডলার নেই। যাদের কাছে ডলার আছে তারা কেনাবেচা করছে। যার কাছে নেই সে বিক্রি বন্ধ রাখবে এটায় স্বাভাবিক।

বিক্রেতাদের দাবি, নির্ধারিত দামে তারা ডলার কিনতে পারছেন না, তাই আপাতত বিক্রিও বন্ধ রয়েছে।

এ অবস্থায় করণীয় কি— জানতে চাইলে মানি চেঞ্জারদের নেতা শেখ হেলাল সিকদার বলেন, এখন মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানগুলো রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে ১১৪ টাকা ৫০ পয়সায়। সরকারের আড়াই শতাংশ প্রণোদনা যোগ হলে ১১৭ টাকা পড়ছে। এই রেটে মানি চেঞ্জারগুলো ডলার সংগ্রহ করতে পারলে বাজারে ডলার সরবরাহ বাড়বে, দামও ধীরে ধীরে কমে যাবে।

এখন বৈধপথে ডলার কেনা বেচা হচ্ছে না তাই দাম বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

spot_img

সম্পর্কিত আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ খবর