নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাবেক কয়েকজন নেতাকর্মীর বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত ছিলেন এমন কয়েকজন ব্যক্তি সম্প্রতি বিএনপির বিভিন্ন নেতার সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা দিচ্ছেন এবং দলীয় কর্মসূচিতেও অংশ নিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সমালোচকদের অভিযোগ, আলোচিত এসব ব্যক্তি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এছাড়া ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা, জোরপূর্বক অর্থ আদায় ও নিপীড়নের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচিত ব্যক্তিদের মধ্যে হাসান মাহমুদ, ঈমান আলি, মুস্তাফিজুর খান, মোহাম্মদ আসিফ, শান্ত রহমান, আবু রায়হান, শেখ রনি ও নাইমুল হাসান, ইমতিয়াজ আহমেদ, মেহেদী হাসান রাসেল সহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। এদের সবাইকে বিগত সরকারের আমলে আওয়ামিলীগের রাজনীতিতে খুব সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি কিংবা তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা বলছেন, অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের দলে সম্পৃক্ত করার আগে তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা ও অতীত কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, এ ধরনের অনুপ্রবেশের কারণে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন, দলীয় নীতিমালা ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সদস্যপদ ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে দল পরিবর্তনের ঘটনা নতুন নয়। তবে কোনো ব্যক্তিকে নতুন দলে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তার অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, জনমত এবং সাংগঠনিক প্রভাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।



